সারাবিশ্ব

দিল্লি উত্তাল: জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

দিল্লি উত্তাল: জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি জুড়ে ছড়িয়ে আছে সংঘর্ষের স্পষ্ট চিহ্ন দেওয়ালে রক্তের দাগ, উল্টে থাকা ব্যারিকেড, ভাঙা কাচ আর রাস্তার ওপর ছড়িয়ে থাকা জুতা-স্যান্ডেল। কোথাও পড়ে আছে স্কার্ফ, কোথাও ভাঙা চশমা কিংবা ছেঁড়া পোশাক সবই সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতির নীরব সাক্ষ্য বহন করছে।

সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও ঐতিহাসিক কনট প্লেস এলাকায় পুলিশের কঠোর অভিযান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীসহ আন্দোলনকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অচল করে দেন।

এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

১৮ বছর বয়সী আন্দোলনকারী অংশুল দেব বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তার অভিযোগ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করছে। তিনি বলেন, দেশকে বিদ্বেষমূলক রাজনীতি থেকে মুক্ত করতেই তারা রাজপথে নেমেছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফলাফল জালিয়াতির ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় গত দুই মাস ধরে তরুণ সমাজের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠছিল। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী উত্তরপত্রের কপি চেয়ে দেখেছেন, তাদের নম্বর ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এসব ঘটনার জেরে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে আন্দোলনের দিন সংসদের ভেতরে তাকে স্বাভাবিক ও হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তার সঙ্গে অন্য সংসদ সদস্যরাও যোগ দেন এবং তিনি আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায়ে আন্দোলনকারীদের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সরকারের অনড় অবস্থান ও পুলিশের কঠোর দমন-পীড়ন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে।

এদিকে, আন্দোলনের এক পর্যায়ে ওয়াংচুককে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের।

লেখক ও জীবনীকার নিলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিজেই সরকারের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। তার মতে, সরকার আগের মতোই কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে এবং সহজে কোনো ছাড় দেবে না।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এই সরকার ভোটের হিসাব না বদলানো পর্যন্ত আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগ থেকে সরে আসবে না। তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভ সত্ত্বেও সরকার নিজেদের দুর্বল দেখাতে চাইবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা