সারাবিশ্ব

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে হত্যার পরিকল্পনা, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে হত্যার পরিকল্পনা, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। বর্ধমান জেলার রেনেসাঁ হাউজিং এলাকা থেকে শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ গোপন অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হামিদ মণ্ডল। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর একটি শাখা ‘হামিল সাজ্জাদ ভাট গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য। তার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চলাচল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে থাকা আরেকজন ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, হামিদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচি, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং ভিআইপি চলাচলসংক্রান্ত গোপন তথ্য ছিল। এমনকি তিনি কোন গাড়িতে চলাচল করেন, চালক কে এবং কোথায় গাড়ি রাখা হয়—এসব বিস্তারিত তথ্যও তার কাছে পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামিদ পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করছিলেন। তিনি কাশ্মীরে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ‘হামিল সাজ্জাদ ভাট গ্রুপ’ চুক্তিভিত্তিক হত্যা ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে ধারণা করছে তদন্তকারীরা।

বর্ধমানে আসার আগে হামিদ হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি বর্ধমানে গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই এ মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তিনি জানান, শনিবার (১ আগস্ট) স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, জইশের নজরদারিতে রাজ্যের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী ও ভারতীয় বিমানবাহিনী-এর সাবেক কর্মকর্তা চন্দ্রনাথ রথ আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান।