সারাবিশ্ব

তারেক রহমান ভারতে না এলে যোগাযোগের পথ বন্ধ হতে পারে: সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

তারেক রহমান ভারতে না এলে যোগাযোগের পথ বন্ধ হতে পারে: সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ভারতের সাবেক প্রবীণ কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি। তার মতে, তারেক রহমান ভারত সফর না করলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যাভূষণ সোনি বলেন, তারেক রহমানকে তার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি খোলামেলা মনে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারেক রহমান ভারতবিরোধী নন এবং ভারতের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্যও দেননি।

সাবেক এই কূটনীতিকের মতে, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতি বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম।

বিশেষ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর ভারতের প্রভাব কাজে লাগিয়ে অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো সফরের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিলেও ওই অনুষ্ঠানের বিষয়ে ভারত সরকার নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বেসরকারি একটি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সুযোগ কাজে লাগানো প্রয়োজন বলে মনে করেন বিদ্যাভূষণ সোনি। তার ভাষ্য, উভয় পক্ষই বর্তমানে সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। তারেক রহমানের ভারত সফর অনুষ্ঠিত হলে তা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে।