সারাবিশ্ব
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ২০ অঙ্গরাজ্যে মামলা
দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগে ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার ফি ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির ২০টি অঙ্গরাজ্য। এসব অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা যৌথভাবে এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক ও অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
মামলাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বনতা ও ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল জয় ক্যাম্পবেল। তাদের সঙ্গে অ্যারিজোনা, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়েস, মেরিল্যান্ড, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, ওরিগন, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরাও যুক্ত হয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে, যা প্রয়োজনহীন এবং আইনবহির্ভূত। এতে করে ভিসার আবেদনকারীদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বনতা বলেন, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া ভালোভাবেই জানে, বৈশ্বিক দক্ষ জনশক্তি ছাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো অস্থায়ীভাবে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ পায়। ২০০৪ সাল থেকে চালু থাকা এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ৮৫ হাজার বিদেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পান। বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও ব্যবসায় প্রশাসন খাতে এই ভিসার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল ও গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসার অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী। এ ছাড়া এই ভিসাধারীরা পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি এবং নির্দিষ্ট সময় পর নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগও পেয়ে থাকেন।
এর আগে এইচ-১বি ভিসার জন্য নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার ফি দিতে হতো। তবে গত সেপ্টেম্বর মাসে সেই ফি একলাফে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়।
ফি বৃদ্ধির ফলে শুধু বেসরকারি খাত নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মীর ওপর নির্ভরতা ছিল বেশি। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৪ শতাংশ স্কুলে স্পেশাল এডুকেশন, ফিজিক্যাল সায়েন্স, দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে।