সোশ্যাল মিডিয়া

‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, সমন্বয়কদের মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘হাসিনার আব্দুল্লাহ’ বলে ডাকার সূত্রপাত হয় ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আয়োজিত গায়েবানা জানাজা ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ ছয় শহীদের জন্য আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে রিফাত রশিদ একটি প্রতিবাদলিপি লেখেন। সেটি যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হাসনাত আবদুল্লাহকে।

রাশেদ খাঁনের দাবি, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে হাসনাত আবদুল্লাহ ওই প্রতিবাদলিপির শেষের দিকে ‘আলোচনার দরজা খোলা আছে’ বাক্যটি যুক্ত করেন। সমন্বয়কদের কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই তিনি সেটি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সমন্বয়কদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাসনাত স্বীকার করেন, ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে তিনি ওই বাক্যটি যুক্ত করেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রাশেদ।

তিনি আরও লেখেন, ১০ জুলাই কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর তিন দিনের সময়সীমা দিয়ে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে বসে ডিজিএফআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও লিখেছিলেন হাসনাত ও সারজিস।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহবাগে হাসনাত ও সারজিস উপস্থিত হওয়ার পর অন্য সমন্বয়করা আন্দোলন স্থগিতের প্রস্তাবে রাজি হননি। ফলে তারা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন লেখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে এভাবে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯ জুলাই শহীদদের রক্তের মধ্যেও আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক, নাহিদ ও আসিফ গুম হওয়ার পর ডিজিএফআইয়ের গাড়িতে ঘোরাফেরা এবং গোয়েন্দা হেফাজতে থাকার সময় পুকুরপাড়ে বসে জুস খাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।

এ ছাড়া দীর্ঘ ৬১ দিন গুম ও দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকা বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে শুধু ‘সালাউদ্দিন’ বলে সম্বোধন করা এবং বিএনপিই একসময় তার বিচার করবে বলে মন্তব্য করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ। তার মতে, শেখ হাসিনার হাতে গুমের শিকার হওয়া একজন নেতার বিষয়ে এমন বক্তব্যের পেছনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি মনোভাব ও শেখ হাসিনার পতন নিয়ে ক্ষোভের বিষয়টি থাকতে পারে।