সোশ্যাল মিডিয়া

জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনীতি, আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। তার এসব বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ২টা ২৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা। পোস্টে তিনি দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেক মানুষ পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দীন আম্মারের নামও উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে শিবির ও ছাত্রশক্তির একটি গোষ্ঠীর লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন উমামা। তার ভাষ্য, এর প্রভাবেই ৫ আগস্টের পর অনেক নতুন ব্যক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। উমামার অভিযোগ, পর্দার আড়ালের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুলাই আন্দোলনের নামে কৃত্রিম জনসম্মতি তৈরির চেষ্টা করছে। তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরে তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের উদাহরণ টেনে উমামা ফাতেমা বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার ক্ষেত্রে ফেসবুক কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে জনমত ও জনপ্রিয়তার বয়ান তৈরি করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন উমামা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস এতদিন ৫০ বছরের হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন জামায়াতের কারণে ইতিহাসকে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করতে হচ্ছে।

পোস্টের শেষ দিকে উমামা ফাতেমা বলেন, ‘জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই।’ একই সঙ্গে জামায়াত তাদের অতীতের ‘গণহত্যার কালিমা’ ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এটি উমামা ফাতেমার নিজস্ব বক্তব্য ও অভিযোগ।