সোশ্যাল মিডিয়া

‌‘এত ভোগান্তি আগে ছিল না, দেশে জন্ম নেওয়া এখন পাপের পর্যায়ে পড়ে গেছে’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

‌‘এত ভোগান্তি আগে ছিল না, দেশে জন্ম নেওয়া এখন পাপের পর্যায়ে পড়ে গেছে’
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ ভোগান্তির শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ভ্রমণ বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ও দন্ত চিকিৎসক ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। পবিত্র ওমরা পালন শেষে দেশে ফেরার পথে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দেশে জন্ম নেওয়াই যেন এখন পাপের পর্যায়ে পড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বলেন, এত ভোগান্তির কথা কাকে বলবেন? তাদের কপালই এমন যে এই দেশে জন্ম নিতে হয়েছে। জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে এসব কষ্ট বয়ে বেড়াতে হবে, যার যেন কোনো শেষ নেই।

বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জানান, সকাল ৯টার পাঁচ মিনিট আগে তাদের বিমান অবতরণ করে। এরপর ট্রলি পেতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ট্রলি পাওয়ার পরও লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লাগেজ হাতে পেলেও ততক্ষণে প্রায় তিন ঘণ্টা পার হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিকে বর্ণনাতীত ভোগান্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগ তুলে ধরে এই চিকিৎসক বলেন, অনেকে দূরদূরান্ত থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে লাগেজ সংগ্রহের স্থানে বসার ব্যবস্থা না থাকায় বয়স্ক মানুষ, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের এমন ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই। মানুষের ধৈর্যেরও একটা সীমা রয়েছে। অথচ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই।

এ ছাড়া ওমরা পালন শেষে ফেরার সময় জমজমের পানি না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার ভাষ্য, পানি কেন আসেনি, সেটি নিয়েও বিমান কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাত্রীদের বিষয়টি জানিয়ে দায়িত্বশীল কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। আগে বিভিন্ন সময় বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হলেও এবারের পরিস্থিতি তার দেখা সবচেয়ে কষ্টকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।