সারাবিশ্ব

‘এআই’ নয়, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-জাতিসংঘে নতুন নাম দিলেন ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

‘এআই’ নয়, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-জাতিসংঘে নতুন নাম দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘বিশ্বায়নবাদী পরিকল্পনা’ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।

ভাষণে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রচলিত ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআই নামে উল্লেখ না করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘অতি-বুদ্ধিমত্তা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, ‘আর্টিফিসিয়াল’ বা কৃত্রিম শব্দটি ব্যবহারের কারণে এই প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আর্টিফিসিয়াল’ শব্দটি শুনলে মনে হতে পারে এটি কোনো ধরনের কৃত্রিম বা নকল বুদ্ধিমত্তা। কিন্তু তার ভাষায়, এ প্রযুক্তি নকল নয়; বরং এর সক্ষমতা অসাধারণ। তিনি দাবি করেন, এ কারণেই ‘আর্টিফিসিয়াল’-এর পরিবর্তে ‘সুপার’ শব্দটি ব্যবহার করা অধিক যথাযথ হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বক্তব্যে ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিপত্রে ‘আর্টিফিসিয়াল’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার’ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’, সংক্ষেপে ‘এসআই’ নামে তিনি প্রযুক্তিটির একটি নতুন পরিচিতি তুলে ধরেন এবং এ প্রযুক্তিকে ঘিরে ‘নতুন বিশ্বে’ স্বাগত জানান।

এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও ভাষণে বেশ স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ‘বিশ্বায়নবাদী পরিকল্পনা’ অনুসরণ করে এআইয়ের বিকাশ নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করার চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করবে। অর্থাৎ প্রযুক্তিটির ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ আরোপের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ের উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে নিজেদের নেতৃত্ব ধরে রাখার পক্ষে অবস্থান করছে।

বর্তমানে এআইয়ের দ্রুত বিকাশ এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

তবে ট্রাম্পের জাতিসংঘের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন ধরনের অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআইয়ের উন্নয়নকে কঠোরভাবে সীমিত করার পরিবর্তে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় মার্কিন নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের বক্তব্যের ফলে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আবারও সামনে এসেছে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির আলোচনা চলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিটির বিকাশে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে নিজেদের নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিচ্ছে।