আইন আদালত

সেই কিশোরী মাকে নিয়ে যে রায় দিল আদালত


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

সেই কিশোরী মাকে নিয়ে যে রায় দিল আদালত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাজারীবাগের আলোচিত ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাকে তার সাত মাস বয়সী ছেলেসন্তান আপাতত কাছে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত-সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে শিশুটির অভিভাবকত্ব নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মো. সায়েম খান জানান, বিদ্যমান আইন ও শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় আপাতত শিশুটি মায়ের কাছেই থাকবে।

তিনি আরও জানান, কিশোরী মাকে শিশুর যথাযথ দেখভাল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ফেসবুক ও টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকেই ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লিগ্যাল এইড সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব চেয়ে তার বাবা যে আবেদন করেছেন, সেটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে চূড়ান্তভাবে শিশুটি কার কাছে থাকবে, সে সিদ্ধান্ত পারিবারিক আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা জুঁই ও তার সাত মাস বয়সী সন্তানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে টিকটকের মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী মো. শাকিল মিয়ার সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, শাকিল মিয়া কিশোরীকে প্রলুব্ধ করে নোটারির মাধ্যমে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হন এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর ৪ মাস।

পরিবারের দাবি, সন্তান জন্মের পর শাকিল মিয়ার পরিবার শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ফলে সন্তানকে ছাড়াই তাকে বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে হয়। পরে নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে গত ২০ মে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শিশুর নিরাপত্তা, কল্যাণ ও অভিভাবকত্ব বিবেচনায় নিয়ে এই শুনানির আয়োজন করা হয়। আপাতত শিশুটি মায়ের কাছেই থাকলেও স্থায়ী অভিভাবকত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালত।