জাতীয়

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণে ২২ সদস্যের কমিশন গঠন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫, ১০:৫০ এএম

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণে ২২ সদস্যের কমিশন গঠন
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি মঞ্জুরিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে ২২ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ গঠন করেছে সরকার।

রোববার (২৭ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ১৫-এর ক্ষমতাবলে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে।

কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে। পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান, সাবেক হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মো. মোসলেম উদ্দীন, এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল করিম। এছাড়াও খণ্ডকালীন সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাবেক মহা-হিসাব নিরীক্ষক, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রশাসন, আইন ও বিচার, জননিরাপত্তা বিভাগ, এফবিসিসিআই ও আইসিএবি প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ। কমিশনের সদস্য সচিব হবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মনোনীত একজন সচিব বা অতিরিক্ত সচিব। প্রয়োজনে কমিশন অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

কমিশনের দায়িত্ব হবে বিদ্যমান বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে একটি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়ন। এই সুপারিশমালা কমিশনের প্রথম সভা থেকে ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। কমিশন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিশেষায়িত চাকরিজীবীদের জন্য পৃথক কাঠামো, আয়করের কাঠামো, বেতন বহির্ভূত ভাতা (যেমন—বাসাভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, উৎসব ভাতা ইত্যাদি), মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের পদ্ধতি, অবসরকালীন সুবিধা, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং রেশন ও অন্যান্য সেবার নগদায়ন সম্পর্কেও সুপারিশ করবে।

সুপারিশ প্রণয়নের সময় কমিশন বিবেচনায় নেবে—৬ সদস্যের একটি পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়, দুই সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি সম্পদের অবস্থা, দারিদ্র্য হ্রাসের কৌশল, দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং সেবার মান বৃদ্ধির উপায়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কমিশনের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রণয়ন সম্ভব হবে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।