জাতীয়

চাঁদাবাজ রিয়াদের আরও এক বাসা থেকে নগদ ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫, ০১:৩৯ পিএম

চাঁদাবাজ রিয়াদের আরও এক বাসা থেকে নগদ ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদ । ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের চাঁদাবাজির অভিযোগে তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার পাওয়া গেল তার আরও একটি ভাড়া বাসার খোঁজ। বাড্ডা এলাকার ওই বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিয়াদ ও তার সহযোগীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করেছে—তাদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে রিয়াদের নাখালপাড়ার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় সাবেক এমপির দেওয়া দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি চেক। এসব চেক ছিল আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আব্দুল কালাম আজাদের কাছ থেকে নেওয়া। জানা যায়, গত ২৬ জুন রিয়াদ ও তার সঙ্গীরা গ্রিন রোডে এমপির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মব তৈরি ও অপদস্থ করার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ওই চেক ও জমির দলিল আদায় করে।

পুলিশ জানিয়েছে, 'নিট জোন প্রাইভেট লিমিটেড' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেক বই ব্যবহার করে এসব চেক ইস্যু করা হয়, যাতে শুধু সই ও টাকা লেখা ছিল—নাম লেখা ছিল না। এসব চেক আগস্টে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় রিয়াদসহ পাঁচজনকে গত ২৬ জুলাই গুলশানে আওয়ামী লীগের আরেক সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসা থেকে আটক করা হয়। পরে কলাবাগান থানায় দায়ের করা মামলায় রিয়াদসহ চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে থাকা অন্যরা হলেন—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাব।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রিয়াদ আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামের একটি নতুন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গুলশানে সাবেক এমপির বাসায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য মিলছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে কারও রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়, অপরাধই মুখ্য। অভিযোগকারীরা আগেই জানালে পুলিশ হয়তো ঘটনা ঠেকাতে পারত।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্তেই জানা যাবে। একই সঙ্গে রিয়াদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।