জাতীয়

রো‌হিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে: নিরাপত্তা উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫৪ পিএম

রো‌হিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে: নিরাপত্তা উপদেষ্টা
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ তার অবস্থানে অটল, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। এমনই বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান।

রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের ব্রিফ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হবে। তারই প্রস্তুতি হিসেবে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক এজেন্ডা থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল, সেই অবস্থান থেকে এটি ফের সামনে আনতে কাজ করছি।”

উল্লেখ্য, গত বছর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রকে একটি সম্মেলনের জন্য আহ্বান জানান। এর পরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১০৬টি দেশের সমর্থনে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, “এই সম্মেলন শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ—যার মাধ্যমে একটি আশু ও স্থায়ী সমাধানের পথ দেখানো সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গারা জাতিসংঘের সদস্য নয়, তাই তাদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর সেখানে সরাসরি পৌঁছায় না। সেই অভাব পূরণেই আমরা কাজ করছি—তাদের আশা, স্বপ্ন, প্রত্যাশা যেন সম্মেলনে তুলে ধরা যায়।”

আন্তর্জাতিক সহায়তা ক্রমে কমে যাওয়ায় স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। বলেন, “সহায়তা যেন অব্যাহত থাকে, সে জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করা।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ঢলের আট বছর পূর্তিতে ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন’। সেখানে প্রাপ্ত বার্তা পরবর্তীতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।

এই সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন। অংশ নেবেন কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক দূত, জাতিসংঘের সংস্থা ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিরাও।

পরবর্তীতে ৬ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন।