জাতীয়

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হতে চাওয়া সাবেক ক্যান্সার হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে দুদকের অভিযান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০২:৩৯ পিএম

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হতে চাওয়া সাবেক ক্যান্সার হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে দুদকের অভিযান
এনআইসিআরএইচ সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হওয়ার প্রলোভনে বিপুল অঙ্কের চেক প্রদান ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম রাজধানীতে তার কার্যালয়ে হঠাৎ অভিযান চালায়।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ডা. মোস্তফার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য অসাধু প্রক্রিয়ায় অর্থ ও চেক প্রদানের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হওয়ার আশায় ডা. গোলাম মোস্তফা একটি সমন্বয়ক গ্রুপের কাছে ১০ লাখ টাকা নগদ এবং মোট ২০০ কোটি টাকার চারটি চেক হস্তান্তর করেন। গ্রুপটি নিজেদের যমুনা গ্রুপ থেকে আগত হিসেবে পরিচয় দেয়। এসময় আরিফুল ইসলাম নামে একজন মধ্যস্থতাকারী উপস্থিত থেকে ডা. মোস্তফার চেম্বার থেকেই চেকগুলো সংগ্রহ করেন। তিনি নিজেকে সমন্বয়ক আরেফিনের ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও আরেফিন সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না, ফোনে পুরো লেনদেনের সমন্বয় করেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, তাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এবং চাপ সৃষ্টি করে চেকগুলোতে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। তিনি জানান, এসব চেক ছিল কেবল ‘সিকিউরিটি চেক’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা চেক নিয়েছিল তাদের হাতে অস্ত্র থাকতে পারে এবং তারা জোরপূর্বক বিষয়টি ঘটিয়েছে।

দুদকের এই অভিযানকে ঘিরে চিকিৎসক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হলে সরকারি স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ-বাণিজ্য ও প্রভাব খাটানোর একটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।