জাতীয়

আমাকেও মাঝেমধ্যে শুনতে হয়, উনি কি আমাদের লোক? : আইজিপি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৩ পিএম

আমাকেও মাঝেমধ্যে শুনতে হয়, উনি কি আমাদের লোক? : আইজিপি
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক ও কার্যনির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “পুলিশ যেন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেটিই সবচেয়ে জরুরি। মামলা তদন্ত কিংবা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো নির্দেশনা যেন আমার কাছে না আসে-আমি এটাই চাই।”

শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আইজিপি বাহারুল আলম। গোলটেবিলটির আয়োজন করে প্রথম আলো ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কল্যাণ সমিতি।

এক বছরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, “গত নভেম্বর থেকে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সময়টা মোটেও সুখকর নয়। দায়িত্বের শুরু থেকেই প্রবল প্রতিকূলতার মুখে পড়েছি। মাঝেমধ্যে আমাকেও শুনতে হয়-‘উনি কি আমাদের লোক?’-এমন প্রশ্ন বারবার শুনতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক সরকারই দেশ চালাবে, তারাই আমাদের অভিভাবক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন আমরা তাদের কাছ থেকে সেই আস্থা পাচ্ছি না? কেন আমরা ভয় পাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে? তাই আমি বলি, আমাকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত করে একটি স্বাধীন সংস্থার অধীনে দিন-যাতে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারি।”

বাহারুল আলম জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাকে তুলে ধরে বলেন, “মানুষের মধ্যে কতটা ঘৃণা ও ক্রোধ জমলে পুলিশ থানা ছেড়ে পালায়, সেটা জুলাইয়ে আমরা দেখেছি। এমন ঘটনা গত ১৫০ বছরে ঘটেনি।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও আমাদের পালাতে হয়নি। কিন্তু জুলাই-আগস্টে কেন পালাতে হলো? কী পরিমাণ ঘৃণা জমেছিল মানুষের মনে, আমরা গত ১৫ বছরে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছি—এটা নিয়ে আমাদের আত্মসমালোচনা করা উচিত।”

আইজিপি বলেন, “আমি চাই, পুলিশ বাহিনীকে আইন অনুযায়ী পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হোক। মামলা তদন্ত, গ্রেপ্তার বা প্রশাসনিক পদক্ষেপে কোনো নির্দেশনা যেন না আসে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের অযাচিত কর্তৃত্ব কমিয়ে পুলিশকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। তাহলেই জনগণের আস্থা ফিরে আসবে এবং পুলিশ হবে সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান।”

বাহারুল আলম আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে, বরং একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই, রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের প্রতি সেই আস্থা রাখুক। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই, কোনো গোষ্ঠীর জন্য নয়।”