জাতীয়

ডিবি হেফাজতে যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু, তদন্তে কমিটি গঠন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৪২ পিএম

ডিবি হেফাজতে যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু, তদন্তে কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতার মোক্তার হোসেন (৪০) ডিবি হেফাজতে মারা গেছেন। এই ঘটনায় তদন্তের জন্য পুলিশের তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মোক্তার ডিবি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোস্তার রাজধানীর পল্লবীতে পরিবারসহ বসবাস করতেন। যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেফতার হন। শুক্রবার বেলা সওয়া ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গত ১৭ নভেম্বর পল্লবীতে কয়েকজন অস্ত্রধারীর গুলিতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ সাত-আট জন অজ্ঞাতকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য এটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নজরুল, মাসুম ও জামানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি মোক্তারের হেফাজতে আছে।

ডিবির একটি টিম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পল্লবী এলাকায় একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মোক্তারকে আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন, তবে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক হন। উত্তেজিত জনতা মোক্তারের ওপর কিল-ঘুষি চালায়। পরে তার দেখানো জায়গা থেকে আট রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর রাত দেড়টার দিকে মোক্তার অসুস্থ বোধ করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও পরে আবারও ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করা হলে তিনি সাড়া দেননি। এরপর তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।