জাতীয়

বাংলাদেশে পাটভিত্তিক পাটভিত্তিক উৎপাদন ও সবুজ প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী চীন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৭ পিএম

বাংলাদেশে পাটভিত্তিক পাটভিত্তিক উৎপাদন ও সবুজ প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী চীন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সবুজ প্রযুক্তি, পাট, বস্ত্র এবং ওষুধশিল্পে চীনা বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত উৎপাদন খাত রূপান্তর পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠককালে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার (এক্সিম ব্যাংক) ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াং দোংনিং বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ জানান। বৈঠকে তার সঙ্গে ছিলেন চীনের ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির প্রেসিডেন্ট ড. মা জুন।

ইয়াং দোংনিং বলেন, চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করছে, আর এখন উৎপাদন খাতের দিকে তাদের মনোযোগ বেশি। বৈঠকে তিনি রুফটপ সোলার প্যানেল, ‘সোনালি আঁশ’ পাট ভিত্তিক জ্বালানি, বায়োসার এবং প্লাস্টিকের বিকল্প উৎপাদনের মতো বড় প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি আরও জানান, এক্সিম ব্যাংক এসব সরাসরি উৎপাদন বিনিয়োগেও অর্থায়নে আগ্রহী।

ড. মা জুন বলেন, ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। তারা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে ১০ লাখ টন পর্যন্ত পাট ব্যবহার করতে প্রস্তুত, যা সবুজ জ্বালানি, সার এবং প্লাস্টিকের বিকল্প উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চীনের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চীনা বিনিয়োগকারীরা চাইলে বাংলাদেশকে উৎপাদনশীল পণ্য রপ্তানির একটি হাবে রূপান্তর করা সম্ভব, যা উন্নত দেশসহ চীনে রপ্তানির সুযোগ বাড়াবে। তিনি ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবাকেও চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন।

ড. ইউনূস আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরশক্তি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে চীন রুফটপ সোলার এবং সবুজ জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশের বিপুল তরুণ শ্রমশক্তি এবং বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো যৌথ উদ্যোগে ব্যবহার করার সুযোগও তুলে ধরেন।

বৈঠকে ইয়াং দোংনিং এআই ও ই-কমার্স খাতেও চীনের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন, যেখানে চীন ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক নেতৃত্বে রয়েছে। জবাবে অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চীনা শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের কাছাকাছি অবস্থান কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দক্ষিণ চীনের সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নয়ন হলে আঞ্চলিক সংযোগ বাড়বে এবং স্থানান্তরিত কারখানার পণ্য রপ্তানি আরও সহজ হবে। বৈঠকের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা হংকংয়ের একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যুর জন্য গভীর সমবেদনা জানান।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।