জাতীয়

আজ ঘোষিত হচ্ছে সংসদ ও গণভোটের তফসিল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০০ এএম

আজ ঘোষিত হচ্ছে সংসদ ও গণভোটের তফসিল
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

এ ভাষণের রেকর্ডিং ইতোমধ্যেই টেলিভিশন ও বেতারের জন্য সম্পন্ন হয়েছে বলে বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তফসিল ঘোষণার আগে রেওয়াজ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ দল দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে। রাষ্ট্রপতিও প্রস্তুতির সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আইন অনুযায়ী নতুন সংসদীয় আসনের সীমানার গেজেট প্রকাশ ছাড়া ৩০০ আসনে তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে আপিল বিভাগ বাগেরহাটের একটি আসন কমিয়ে আনার বিষয়ে ইসির পূর্বের গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। ফলে বাগেরহাটে আগের মতো ৪টি আসন এবং গাজীপুরে ৫টি আসন পুনর্বহাল করতে হবে।

এ কারণে আজ তফসিল ঘোষণার আগে আদালতের লিখিত আদেশ ইসিতে এসে পৌঁছাবে এবং দ্রুত নতুন করে সীমানা গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে আশা করছে কমিশন। না হলে ৩০০-এর পরিবর্তে ২৯১টি আসনে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে কমিশন বর্তমান পরিস্থিতিতে রিভিউয়ে না গিয়ে আদালতের নির্দেশনা মেনে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যদিও বুধবার এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব বলেন, “আমরা এখনো আদালতের রায় হাতে পাইনি। তাই আপাতত ৩০০ আসনেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।”

গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসি দেশের ৩০০টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত করে। এতে ১৬ জেলার ৪৬টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসে। বাগেরহাটে ৪টি আসন কমিয়ে ৩টি করা হয় এবং গাজীপুরে ৫টি থেকে বাড়িয়ে ৬টি করা হয়েছিল। আদালতের রায়ের ফলে এখন আগের অবস্থায় ফিরতে হচ্ছে ইসিকে।

ইসি জানায়, সীমানা-সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্যান্য সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে গিয়ে কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, প্রবাসী ভোট (ওসিভি), দেশীয় ডাক ভোট (আইসিপিভি) চালুর অগ্রগতি, দুই পৃথক ব্যালট পেপারের প্রস্তুতিসহ পুরো আয়োজনের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে।

এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে—সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করে ইসির প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এবং তার আগের দিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন প্রস্তুতি তুলে ধরে সিইসি। উভয় পক্ষই প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এবারের নির্বাচনে— ৩০০টি আসনে, ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সংসদ নির্বাচনে সাদা রঙের ব্যালট পেপার এবং গণভোটে গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নির্বাচনী উত্তাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।