জাতীয়
‘শিগগিরই বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক কমানোর ঘোষণা আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের’
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ হ্রাসের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অর্জন তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের মনোভাব ইতিবাচক। বর্তমানে কার্যকর ২০ শতাংশ শুল্ক কতটা কমানো হবে, সে বিষয়ে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।
দাভোসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অশুল্কনীতি ও বাণিজ্যিক অবস্থান অনেকাংশেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাণিজ্য বাধা কমানোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন বিশেষ দূত। তিনি জানান, ডব্লিউইএফ সম্মেলনের ফাঁকে ইইউ কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু ও জোজেফ সিকেলার সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। তবে ইইউর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তুলনামূলক দীর্ঘ হওয়ায় বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইইউ ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে এফটিএ আলোচনায় ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নোট সংরক্ষণ করে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
বিশেষ দূত বলেন, এবারের ডব্লিউইএফ সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় ও শক্তিশালী উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নতুন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।