জাতীয়
বিএনপি না নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিলো ১১ দলীয় জোট
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলেও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উভয় পরিচয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টা ২৮ মিনিটে জাতীয় সংসদ সচিবালয়-এর শপথ গ্রহণ কক্ষে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিতদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এর আগে একই দিনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আলাদাভাবে সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেন। উভয় ক্ষেত্রেই শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির শরিক দলগুলো জয় পেয়েছে ৩টি আসনে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে আরও ৯টি আসন। এর মধ্যে এনসিপি ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয়লাভ করেছে।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের ভিন্ন অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ বিষয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।