জাতীয়
২০৩৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার
সরকার আগামী দশকে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, ২০৩৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
সেতু বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার এবং এটি জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানী থেকে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে এবং বেনাপোল, দর্শনা ও মোংলা বন্দরগুলোর সঙ্গে সংযোগ সহজ হবে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতু বগুড়া-জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট বা অন্য উপযুক্ত রুটে নির্মাণ করা হতে পারে। সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, যমুনা সেতুর সংযোগ সড়কগুলো ছয় লেনে উন্নীত হলেও, মূল সেতু সংকীর্ণ থাকার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে নতুন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সেতু বিভাগ বিস্তারিত আলোচনা করেছে। সচিব আবদুর রউফ বলেন, প্রতিদিন এই রুটে ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে এবং চাপ ক্রমবর্ধমান। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে দ্রুত গতিতে যান চলাচল সম্ভব হবে, যাত্রার সময় কমবে এবং ব্যবসা, পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
সেতু বিভাগ উল্লেখ করেছে, নতুন সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। পদ্মা ও যমুনা সেতু ইতোমধ্যেই এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া, সেতু বিভাগের অগ্রাধিকারভিত্তিক পাঁচটি খাতের মধ্যে রয়েছে—বৃহৎ সেতু, টানেল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন।
বর্তমানে সেতু বিভাগের আওতাধীন প্রকল্প সংখ্যা ৫৭টি, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলমান প্রকল্পের ব্যয় ৩৬ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন হবে ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণ, পায়রা সেতু এবং মেঘনা-ধনগোদা নদীর উপর সেতু নির্মাণ।