জাতীয়

এবারের বাজেটকে 'জীবনবান্ধব বাজেট' নামকরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

এবারের বাজেটকে 'জীবনবান্ধব বাজেট' নামকরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের কারণে বাজেট ঘোষণার পর বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি। সরকার কোনো সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না, বরং তা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করাই তাদের লক্ষ্য।

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। দেশের অতীত ও বর্তমান নিয়ে আলোচনা থাকলেও এখন ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। জনগণও সংসদে ভবিষ্যতমুখী আলোচনা প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থনীতিকে কিছু সুবিধাভোগীর হাত থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ব্যক্তিস্বার্থে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এখন অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। কোনো প্রকল্পে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তার চেয়ে মানুষের জীবনে সেই প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব কতটা সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দরিদ্র মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগও বাড়ানো হবে।

তিনি জানান, কৃষকদের জন্য দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে বিশেষ পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাক্রমে খেলাধুলার গুরুত্ব বাড়ানো হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে নতুন ভাতার আওতায় আনা হবে। নতুন কুঁড়ি কার্যক্রমেও খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে তেরোটি দেশে তেইশটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তিও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ভোলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের পাঁচ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে কর্মমুখী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাক্রমে চীনা, জাপানি ও ফরাসি ভাষা শিক্ষার সুযোগ চালু করা হবে।

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ খাতে এবার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হৃদরোগের রিং, ক্যানসারের ওষুধ এবং কিডনি চিকিৎসার সরঞ্জামের ওপর কর ও মূল্য সংযোজন কর হ্রাস করা হবে, ফলে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

এ ছাড়া আগামী দুই অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা চার লাখ টাকা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে সম্পত্তি নিবন্ধনে কর শনাক্তকরণ সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন প্রধানমন্ত্রী।