শিক্ষা

বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড থাকা জরুরি। ভালো ও তুলনামূলক কম ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকবে, তবে শিক্ষার মৌলিক মান ও কারিকুলামে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু বিশ্বের সেরা শিক্ষাচর্চা অনুসরণ নয়, একদিন বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্যান্য দেশ শিক্ষাব্যবস্থার সেরা চর্চা গ্রহণ করে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের সময়, কার্যকর শেখার সময়, শ্রেণিকক্ষের আয়তন অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের মতো বিষয়গুলোতে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় কার্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা এবং শেখার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহার থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে চায়।

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কারিকুলাম তৈরির পর কেউ যেন বলতে না পারেন যে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েই সরকার সামনে এগিয়ে যেতে চায়।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমান সুযোগের পরিবেশে আনতে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি, এই চার ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিসহ ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।