শিক্ষা

একাদশে ভর্তির আবেদন ফের শুরু, ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরাও পাচ্ছেন সুযোগ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

একাদশে ভর্তির আবেদন ফের শুরু, ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরাও পাচ্ছেন সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের আবারও আবেদনের সুযোগ দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। একই সঙ্গে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ও রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত এ সুযোগ থাকবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের সংশোধিত ফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব শিক্ষার্থী আগে আবেদন না করে থাকলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন, তারা নিজেদের পছন্দক্রম ও আবেদন পরিমার্জনের সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া গত ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। তাদের জন্যও ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে আবেদনকারীরা তাঁদের পছন্দের কলেজের তালিকায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবেন।

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয় গত ২ সেপ্টেম্বর। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অনলাইনে আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীকে ২২০ টাকা ফি দিতে হবে।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীরা তাঁদের পছন্দক্রম পরিবর্তনেরও সুযোগ পাবেন। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়।

প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। এরপর পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়।

মাইগ্রেশনের পর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মূল কার্যক্রম চলবে। আর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, যে শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে, সেই বছর এবং তার আগের দুই বছরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন। অন্যদিকে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ দুই শ্রেণির জন্য মোট ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে ওই আসন মেধাতালিকার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তবে এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে পাওয়া নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন।

ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি নিয়েও নীতিমালায় নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। অন্যান্য মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা, জেলা সদরে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীর প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার বা রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু বা নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি কিংবা এমপিওভুক্তি বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ফলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন, পছন্দক্রম নির্ধারণ এবং ভর্তি নিশ্চায়ন সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।