রাজনীতি

৬ মাসেও জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি সরকার: জামায়াত আমির


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

৬ মাসেও জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি সরকার: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

দেশ ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প খাতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সরকারের ছয় মাস সময় পার হলেও সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এ খাতের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিজিএমইএ সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিমের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোকে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উচিত ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বিরোধী দল শুরু থেকেই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি সরকার প্রথমদিকে অস্বীকার করেছে।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিলেন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, তারা গণভোটের পক্ষে ছিলেন এবং জনগণও এতে সাড়া দিয়েছে। কিন্তু সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং গণভোটের রায়কে অমান্য করেছে। জনগণের রায়কে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় বগুড়াকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হতো। কিন্তু স্বাধীনতার পর কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শিল্পায়নের বিকাশ ঘটেনি।

বগুড়ার প্রতি অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বগুড়া কেন এতটা অবহেলিত, তা তিনি জানেন না। তবে বগুড়া তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকবে না। এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও শিল্পায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।