সারাবিশ্ব

কারাগারে সাবেক এমপির সেলে মোবাইল, মিলল কয়েক ডজন পর্নো ভিডিও


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

কারাগারে সাবেক এমপির সেলে মোবাইল, মিলল কয়েক ডজন পর্নো ভিডিও
ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নার কারাগারের সেল থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েক ডজন পর্নোগ্রাফিক ভিডিও পাওয়া গেছে।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

গত ১১ আগস্ট বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা অগ্রহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে আকস্মিক অভিযান চালায় অপরাধ তদন্ত শাখার একটি বিশেষ দল। এ সময় উচ্চনিরাপত্তাযুক্ত ব্যারাকে থাকা প্রজ্বল রেভান্নাকে নিজের সেলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে তার সেল থেকে একটি মোবাইল ফোন, চার্জার, পেনড্রাইভ ও একটি নোটবুক জব্দ করা হয়।

জব্দ করা মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোবাইল ফোনটিতে ডজনখানেক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও সংরক্ষিত ছিল। এছাড়া পেনড্রাইভে একাধিক ওয়েব সিরিজ পাওয়া গেছে।

কারাগারের ভেতরে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, সিম কার্ডসহ যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগের যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম অনুযায়ী বন্দীদের যোগাযোগের জন্য নজরদারির আওতায় থাকা নির্ধারিত ল্যান্ডলাইন, পাবলিক কল অফিস অথবা ভিডিও কলের ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে প্রজ্বল রেভান্নার সেল থেকে মোবাইল ফোনসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় বেঙ্গালুরুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বিশেষ সুবিধা পাওয়া বন্দীদের নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর ভাতিজা প্রজ্বল রেভান্না বর্তমানে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

গত বছর ৪৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণ এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ওই নারী হাসান জেলার হোলেনারাসিপুরায় রেভান্না পরিবারের খামারবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে প্রজ্বল রেভান্না তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখেন। বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরে মামলার বিচার শেষে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।