জাতীয়
মামলা করতে কোনো বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গত ১০ থেকে ১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বেশি দেখানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এখন থানায় গিয়ে মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা নেই। ফলে রেকর্ডভুক্ত ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
পরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বরাদ্দ ১ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংবাদমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত মার্চ ও এপ্রিলে দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষায়, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুন হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন যদি কার্যক্রমে দেখা যেত, তাহলে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব দিতে হতো না।
এদিকে, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেক দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইউনিয়ন ও মহল্লাভিত্তিক গ্রাম পুলিশ নিয়োগের মাধ্যমে মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এসব সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরের তুলনায় খুন, ডাকাতি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যানে দেশের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তবে ধর্ষণের মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে সংখ্যা বেড়েছে। এর কারণ, আগে সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় যেতে পারতেন না। এখন থানায় গিয়ে বা অনলাইনে অভিযোগ করা যায়। কোনো ধরনের বাধা না থাকায় রেকর্ডভুক্ত মামলার সংখ্যা বেড়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত অর্থবছরের তুলনায় এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বেড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া প্রতিরোধ আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বরাদ্দ চাওয়া হবে।
এ ছাড়া সংসদে আইনজীবীদের ব্যান্ড পরে আসা রুমিন ফারহানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদের নিজস্ব কার্যপ্রণালী রয়েছে। এখানে পোশাকের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং তার পরিধান করা পোশাকও শোভন।