জাতীয়

বন্যায় দেশে ৫৬ জনের মৃত্যু, আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজারের বেশি মানুষ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

বন্যায় দেশে ৫৬ জনের মৃত্যু, আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজারের বেশি মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খোলা ৩২৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৪ জন মানুষ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলার সংখ্যা সাতটি—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। প্রতিবেদনে বন্যাকবলিত উপজেলার সংখ্যা নিয়ে কিছু অসঙ্গতি থাকলেও মোট ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩৪টি এবং পৌরসভা ১২টি।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। সেখানে আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। চট্টগ্রামে ১৫ জনের মৃত্যু ও ১২ জন আহত হয়েছেন। বান্দরবানে ছয়জন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন ও বান্দরবানে দুজন আহত হয়েছেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চট্টগ্রামে ৭০টি কেন্দ্রে তিন হাজার ১৪০ জন, রাঙামাটির ৪০টি কেন্দ্রে তিন হাজার ১৫৮ জন, বান্দরবানের ৫৪টি কেন্দ্রে দুই হাজার ৫৮৪ জন এবং মৌলভীবাজারের ১০টি কেন্দ্রে এক হাজার ৭৪৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া খাগড়াছড়ির তিনটি কেন্দ্রে ৩৪ জন এবং কক্সবাজারের তিনটি কেন্দ্রে ১৯৩ জন অবস্থান করছেন। হবিগঞ্জে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের মহানগরসহ ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং জেলার ১২২টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারের ১০ উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা, রাঙামাটির ৯ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা এবং বান্দরবানের সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছে মোট এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা ও এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পৃথকভাবে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জে পাঁচ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের অন্যান্য ৫৭ জেলার জন্য জেলাপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৪ জেলার জন্য চার কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং আট হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।