জাতীয়

হাদি হত্যা মামলার আসামি তাজুল পাল্টে ফেললেন নিজের ও বাবার নাম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

হাদি হত্যা মামলার আসামি তাজুল পাল্টে ফেললেন নিজের ও বাবার নাম
ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার ‘নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ভারতে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী নামে পরিচিত হলেও ভারতে তিনি মহিউদ্দীন চৌধুরী নামে আধারকার্ড নিয়েছেন। একই সঙ্গে বাবার নাম ও জন্মতারিখও পরিবর্তন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেসরকারি টেলিভিশন স্টার নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাজুল ইসলাম বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশি পাসপোর্টে তার নাম তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং বাবার নাম নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তবে ভারতের আধারকার্ডে নিজের নাম মহিউদ্দীন চৌধুরী এবং বাবার নাম নজরুল উদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেছেন তিনি।

পরিচয়ের পাশাপাশি জন্মতারিখেও পরিবর্তন আনার তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টে তাজুলের জন্মতারিখ ৫ জুলাই ১৯৮৩। কিন্তু ভারতের নথিতে তার জন্মসাল ১৯৮৮ উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ বয়স পাঁচ বছর কম দেখানো হয়েছে।

ভারতের নথিতে তাজুলের ঠিকানা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার খিদিরপুরের বুখলেস রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার দসদ্রমে পূরতী একুয়া, এফ৩-এর খ নম্বর ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করছেন বলেও জানানো হয়েছে।

নথি বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, ভারতের আকরাম আলী ওরফে ভিকি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে তাজুলের। মূলত ভিকিই তাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে হাদি হত্যা মামলায় ডিবি আদালতে চার্জশিট জমা দিলেও বাদীপক্ষ নারাজি দেওয়ায় বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতে আটক আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. জসীম উদ্দীন খান বলেন, আগের তদন্তের অনেক বিষয়ই বর্তমান তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে। চার্জশিট দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অন্য কোথাও ভিন্ন নাম ব্যবহার করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আসলেই একই ব্যক্তি কি না, সেটি আগে যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা ও কথিত শুটার ফয়সাল এবং মোটরসাইকেলচালক যুবলীগ নেতা আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেয় ডিবি। তদন্তে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে বলে উঠে আসে। ঘটনার পর থেকেই বাপ্পী পলাতক রয়েছেন।