জাতীয়

‘গরিবের টেসলা’ বাড়াচ্ছে বিদ্যুতের চাপ, মধ্যরাতেও চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

‘গরিবের টেসলা’ বাড়াচ্ছে বিদ্যুতের চাপ, মধ্যরাতেও চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার ব্যাপক ব্যবহারের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়কে বিদ্যুতের পিক আওয়ার ধরা হলেও এখন মধ্যরাতেও প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকছে। ব্যাটারিচালিত এসব যানবাহনকে ‘গরিবের টেসলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দিনের বেলায় চলাচলের পর রাতে বিপুলসংখ্যক যানবাহন একসঙ্গে চার্জে বসানো হচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আগে সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকত। এরপর সাধারণত চাহিদা কমে আসত। কিন্তু বর্তমানে রাত ১২টার পরও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে, যা স্বাভাবিক নয়। সারাদিন চলাচলের পর বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশা রাতে একসঙ্গে চার্জে বসানোয় এই বাড়তি চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সংযোগগুলোর সিংহভাগই অবৈধ বা অননুমোদিত বলেও অভিযোগ করেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব অননুমোদিত সংযোগ চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধার মুখে পড়ছেন এবং হামলার শিকার হচ্ছেন।

দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে সংকট তৈরি হয়েছে। শিল্প খাত ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গত ১৭ বছর দেশে গ্যাস অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে। আমদানিনির্ভরতা তৈরি করা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যথাযথভাবে গড়ে তোলা হয়নি। দুটি এফএসআরইউর পরিবর্তে চারটি এফএসআরইউ স্থাপন করা হলে বর্তমান সংকট হয়তো তৈরি হতো না।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বড় বিনিয়োগকারী দল বাংলাদেশে আসছে এবং তারা এফএসআরইউ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। এ বিষয়ে দ্রুত আগ্রহপত্র দেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় সিপিডি জানায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে পর্যাপ্ত এলএনজি আমদানি করতে না পারায় সংকট আরও বাড়ছে। গ্যাসের অভাবে দেশের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

সিপিডির মতে, দেশের জ্বালানি সংকটের পেছনে অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন কারণও রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর। এ সময় অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাতসহ জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।