জাতীয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বড় সুখবর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বড় সুখবর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে প্রকল্পটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং জাতীয় লোড প্রেরণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জিই ভার্নোভার মধ্যে এ চুক্তি হয়।

চুক্তির আওতায় রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ও তথ্য জাতীয় লোড প্রেরণ কেন্দ্রের তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে।

এর ফলে রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংকেত জাতীয় গ্রিড পরিচালনার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন। জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা।

ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য পাঠাতে এ চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। কেন্দ্রটির কমিশনিং এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুরের উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান জানান, জাতীয় লোড প্রেরণ কেন্দ্রের তদারকি ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে কেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পরিচালনা সম্ভব হবে। এতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি কমিশনিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

অনুমোদন পাওয়ার পর শুরু হবে চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়া। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে তা বাণিজ্যিক উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছাবে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, দেশের সব চালু বিদ্যুৎকেন্দ্রই জিই ভার্নোভার তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় লোড প্রেরণ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সারাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিস্থিতি এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই চুক্তির মাধ্যমে রূপপুর জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং-পরবর্তী বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কেন্দ্রটি চালু করতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।