জাতীয়
গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের চেয়ে শক্তিশালী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে সরকারের প্রস্তাবিত আইনকে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের চেয়ে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন আইনে গুমের শিকার ব্যক্তি কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদে মানবাধিকার কমিশন বিলসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৫ সালের গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ার নির্ধারণের পাশাপাশি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারকে নানা ভোগান্তির পর মামলা করতে হতো। নতুন আইনে তাদের সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, জোরপূর্বক গুমের বিষয়টি আগের মতোই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে থাকবে। এ ধরনের অপরাধের বিচার সেখানেই হবে। পাশাপাশি গুমের অন্যান্য ধরনও নতুন আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে গুমের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দায় যার ওপর বর্তাবে, তার সম্পদ না থাকলেও ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তানোর বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাধীন তদন্ত সংস্থা গঠনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে খুঁজতে মানবাধিকার কমিশন চাইলে বিনা নোটিশে কোথাও পরিদর্শনে যেতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন স্বাধীন তদন্ত সংস্থা হিসেবে গুমের বিষয়ে তদন্ত করতে পারবে। তবে আদালতে সেই তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রস্তাবিত আইনে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদে মানবাধিকার কমিশন আইন আনার আগে আইনমন্ত্রী কয়েক মাস সময় নিয়েছেন। এ সময়ে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের পাশাপাশি বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যতটুকু অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব, তা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংশোধনের সময় বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যাবে।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে একটি অধ্যাদেশ জারি করে। বর্তমানে সেই অধ্যাদেশ সংশোধন করে আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে।