সারাদেশ
পুলিশ চিনতে না পারায় থানার সামনে ছাত্রদল নেতার মশাল মিছিল
রাজশাহীর পবায় পুলিশ এক তরুণকে চিনতে না পারায় থানার সামনে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন তিনি ও তার সমর্থকেরা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দারুশায় রাজশাহী মহানগর পুলিশের কর্ণহার থানার সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন সাদমান সাকিব। তিনি পবা উপজেলার দারুশা রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা। একসময় জেলা তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। গত ১৫ আগস্ট ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাদমান। বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং জেলা ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী। তবে সংগঠনটিতে এখনো তার কোনো পদ নেই।
সাদমানের অভিযোগ, গত ২৮ আগস্ট রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তার দুই কর্মী নাজমুল ও রেফাজুল তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। পথে শিশাপাড়া ঈদগাহের সামনে কর্ণহার থানা পুলিশের একটি দল তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তার দাবি, এ সময় উজ্জ্বল নামের এক সহকারী উপপরিদর্শক তাদের হয়রানি করেন এবং তাকে কটূক্তি করেন। পুলিশকে তারা জানিয়েছিলেন, সাদমানকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে তারা ফিরছিলেন। এরপরও তল্লাশির নামে তাদের হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মশাল মিছিল শেষে সমাবেশে সাদমান বলেন, বয়স কম দেখে তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সন্দেহ হলে পুলিশ থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, তবে পুলিশের আচরণ গ্রহণযোগ্য ছিল না।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতারও সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানান, থানার সামনে মশাল মিছিল ও সমাবেশের ভিডিও তিনি দেখেছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, রাত ১টার পর সাদমানের দুই কর্মী মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। টহল পুলিশ তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তারা সাদমান সাকিবকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসার কথা জানান। তখন সহকারী উপপরিদর্শক উজ্জ্বল তাদের বলেন, তিনি সাদমান সাকিবকে চেনেন না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই থানার সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান রাজশাহী মহানগর পুলিশের এই কর্মকর্তা।