বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি
দেশে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইডথ মজুত, ইন্টারনেটের দাম বাড়ার খবর ভিত্তিহীন: বিএসসিপিএলসি
দেশে ব্যান্ডউইডথ সংকট, ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া কিংবা দাম বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথের কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও সংকটের আশঙ্কা নেই।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি। সম্প্রতি ‘ব্যান্ডউইডথ সংকটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ’ এবং ‘ব্যান্ডউইডথ সংকটে বাড়তে পারে ইন্টারনেটের দাম, কমতে পারে গতি’ এমন শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির দুটি সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই-৪’ ও ‘সি-মি-উই-৫’-এর সম্মিলিত ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার জিবিপিএস ইতোমধ্যে দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও প্রায় ৩ হাজার ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে নির্মাণাধীন ‘সি-মি-উই-৬’ ক্যাবলটি ২০২৭ সালে চালু হলে আরও ৩৪ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ যুক্ত হবে। এতে ওই বছর নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে ৪১ হাজার জিবিপিএস।
‘সি-মি-উই’ হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম ইউরোপকে সংযুক্তকারী আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্ক।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশে ব্যান্ডউইডথের মোট চাহিদা হবে ৩০ হাজার জিবিপিএস। এই চাহিদা রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর সম্ভাব্য সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি ছয়টি আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যান্ডউইডথ আমদানি করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রমও শুরু করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিএসসিপিএলসি বলেছে, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথের চাহিদা পূরণে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও সংকটের সম্ভাবনা নেই।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ব্যান্ডউইডথের মূল্য ধারাবাহিকভাবে কমানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন সাশ্রয়ী প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লেও আরও কম মূল্যে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।