সারাবিশ্ব
বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা আবারও চালু
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর আরোপ করা স্থগিতাদেশ পুরোপুরি তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।
এর আগে ২১ আগস্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। আদালতের আদেশে বলা হয়, এ নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছেন। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ‘ক্লিনিক বনাম রুবিও’ নামে পরিচিত।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরটির দাবি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। এর ফলে তারা স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন।
গত ২৮ আগস্ট নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২১ আগস্ট থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুর ওপর স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্রিনকার্ড বা অভিবাসী ভিসাধারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া উচিত এবং তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, তা নিশ্চিত করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যেন যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন এবং রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হিসেবে বিবেচিত না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক যাচাই ও বিস্তারিত পর্যালোচনার নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
বাংলাদেশ ছাড়াও যেসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ ছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেও এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়া এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কাজও চালিয়ে গেছে।
এখন স্থগিতাদেশ পুরোপুরি উঠে যাওয়ায় আবেদনকারীরা প্রচলিত নিয়মে তাদের অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন।