সারাবিশ্ব

মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে খালি পায়ে ম্যারাথন জিতলেন ৪৭ বছরের মা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম

মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে খালি পায়ে ম্যারাথন জিতলেন ৪৭ বছরের মা
ছবি: সংগৃহীত

মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে শাড়ি পরে ম্যারাথনে নেমেছিলেন ৪৭ বছর বয়সী এক মা। পায়ে থাকা চপ্পল বারবার খুলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটি হাতে তুলে নিয়ে খালি পায়েই দৌড় শুরু করেন তিনি। পাথর আর রুক্ষ রাস্তার কষ্ট উপেক্ষা করে একের পর এক তরুণ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ছুঁয়ে ফেলেন ফিনিশিং লাইন। শুধু জয়ই নয়, পুরস্কারের ৩ হাজার রুপিও মেয়ের পড়াশোনার পেছনে ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের এই নারী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের বিড জেলার আম্বাজোগাইয়ে ভারতীয় শিক্ষা প্রসারক সংস্থার খোলেশ্বর এডুকেশনাল কমপ্লেক্সের অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে ‘অমৃত দৌড়’ নামে একটি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ চৌক থেকে শুরু হয়ে ভাগ্যনগর চৌকে গিয়ে শেষ হয়।

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন আম্বাজোগাইয়ের বাসিন্দা রমাবাই রণবীর। অন্য প্রতিযোগীদের মতো তিনিও খুব সাধারণ পোশাকে ম্যারাথনে অংশ নেন। পরনে ছিল শাড়ি আর পায়ে ছিল সাধারণ একজোড়া চপ্পল। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছু দূর যাওয়ার পর অসমান ও পাথুরে রাস্তায় তার চপ্পল বারবার খুলে যেতে থাকে।

চপ্পল সামলাতে গিয়ে দৌড়ের গতি কমে যাচ্ছিল রমাবাইয়ের। কিন্তু থেমে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না তার। একপর্যায়ে তিনি চপ্পল দুটি খুলে হাতে তুলে নেন। এরপর কোনো দ্বিধা ছাড়াই খালি পায়ে দৌড়াতে শুরু করেন।

রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাথর ও রুক্ষ মাটিতে খালি পায়ে দৌড়ানো ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। পায়ে ব্যথা ও আঘাতের ঝুঁকি থাকলেও সেদিকে কোনো গুরুত্ব দেননি রমাবাই। নিজের লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি দৌড়ের গতি ধরে রাখেন। ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যেতে থাকেন তরুণ প্রতিযোগীরাও।

শেষ পর্যন্ত সবাইকে পেছনে ফেলে সবার আগে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে যান ৪৭ বছর বয়সী এই মা। তার এমন দৃঢ়তা ও অদম্য মানসিক শক্তির সাক্ষী হয়ে উপস্থিত দর্শক ও আয়োজকরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তবে রমাবাইয়ের কাছে এই জয় শুধু একটি ম্যারাথন জয়ের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ৩ হাজার রুপি নিজের জন্য খরচ না করে মেয়ের পড়াশোনার পেছনে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

রমাবাইয়ের এই গল্প তাই শুধু একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় জয়ের ঘটনা নয়; এটি একজন মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ, সাহস ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অদম্য লড়াইয়ের অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ। শাড়ি পরে, খালি পায়ে পাথুরে পথে দৌড়ে তার এই জয় যেন প্রমাণ করে-স্বপ্ন পূরণের পথে বয়স, পোশাক কিংবা প্রতিকূলতা কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, যদি লক্ষ্য থাকে দৃঢ়।