সারাবিশ্ব
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর ঘোষণা মোদির
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও বহুমুখী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বাড়ানো ও তা বহুমুখী করার কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর মাত্র সাত দিনের মাথায় মোদির এই মন্তব্য সামনে এলো। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল গত ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকে দুই নেতা অঞ্চলটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো প্রচেষ্টায় ভারত সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানান মোদি।
ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে।
তবে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে মোদি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, প্রধানমন্ত্রী মূলত বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা খুঁজে দেখার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন, বিমা, পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।
দুই দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চাবাহার বন্দরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের পক্ষ থেকে বন্দর ও সামুদ্রিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ উঠলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, চাবাহার বন্দরের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বন্দরটির ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে একটি টেকসই পথ খুঁজে বের করতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত।
চাবাহার বন্দরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারতের পাওয়া ছাড়ের মেয়াদ গত ২৬ এপ্রিল শেষ হয়েছে। এর ফলে বন্দরটির পরিচালনা থেকে ভারতকে সরে আসতে হয়েছে। তবে চাবাহার বন্দরে ভারত এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে।
ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা গেলে ইরান-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। চলতি বছরে দুই নেতার এটি ছিল প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকে ভারত-রাশিয়ার মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ার পর বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে বলে জানান বিক্রম মিশ্রি। একই সঙ্গে রাশিয়ায় ভারতের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
রাশিয়ার বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশের ক্ষেত্রে থাকা বিভিন্ন বাধা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রুশ পক্ষের সহযোগিতায় মাংস, সামুদ্রিক খাবার ও কিছু দুগ্ধজাত পণ্যসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।