সারাদেশ

বরের গাড়ি থেকে অপহৃত সেই নববধূর ভিডিও বার্তা, ঘটনায় নতুন মোড়


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

বরের গাড়ি থেকে অপহৃত সেই নববধূর ভিডিও বার্তা, ঘটনায় নতুন মোড়
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের পর বরের গাড়ি থেকে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। নববধূ তামান্না আক্তার এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং দীর্ঘদিনের প্রেমিক আতিকুর রহমান মিয়াদের সঙ্গে তিনি স্বেচ্ছায় চলে গেছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া ভিডিও বার্তায় এ দাবি করেন তামান্না। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বরের গাড়ি থামিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভিডিও বার্তায় তামান্না আক্তার বলেন, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হউক, নিজের ইচ্ছায় হউক, যেমনেই হউক। আইছিতো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’

তামান্নার বক্তব্যের পর তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন, তাকে সেখানে কীভাবে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি স্বেচ্ছায় গেছেন নাকি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা।

পথে জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০ থেকে ২৫ জন যুবক গাড়িটি থামানোর পর ভাঙচুর চালান। পরে নববধূকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পর বরযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এ ঘটনায় বরের পরিবারের পক্ষ থেকে হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার পর তামান্না আক্তারের সঙ্গে আতিকুর রহমান মিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তাদের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়া উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের কর্মী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর আতিকুর রহমান মিয়া তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’

হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব বলেন, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত আছি। সে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। মেয়ের পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সে ছাত্রদলের সমর্থক। তবে দলীয় কোনো পদে না থাকায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

হোসেনপুর থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে নববধূকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।