জাতীয়

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইরানের বড় বার্তা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইরানের বড় বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান। একই সঙ্গে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়েও ইরানের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, মক্কা শান্তি চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান। বাংলাদেশের এ বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়েও তাদের উদ্বেগ নেই।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে তেহরান অবগত। বাংলাদেশের সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে না।

বাংলাদেশ ও ইরানের সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে জাহানাবাদি বলেন, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী ইরান।

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের বাইরের মানুষের স্বার্থেও আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত নিরসন এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জানান।

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখিয়েছে, দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর আত্মনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টার ভালো উদাহরণ মক্কা চুক্তি।

তার মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নেওয়া উচিত।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা সহযোগিতার উদ্যোগকে ইরান হুমকি হিসেবে দেখে না বলেও জানান জাহানাবাদি। বরং সংঘাত সৃষ্টি না করে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা গড়ে তোলার সক্ষমতা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।