আইন আদালত

তনু হত্যা মামলায় সাবেক ২ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পিএম

তনু হত্যা মামলায় সাবেক ২ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।

রেড নোটিশ জারি হওয়া দুজন হলেন সাবেক সেনা সদস্য সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম। তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো ঢাকার মাধ্যমে ইন্টারপোল এ নোটিশ জারি করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে জারি করা রেড নোটিশের বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় দুজনই কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের কাছের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার আহম্মেদ কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘদিন মামলাটির তদন্ত করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। পরে ২০২০ সালের অক্টোবরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। এর আগে মামলাটি একাধিক তদন্ত সংস্থার হাতে ছিল।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা মেলানোর জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়। আবেদনটি মঞ্জুর করেন আদালত। ওই তিনজন হলেন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলম।

পরে জুন মাসে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার একটি আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে দুই সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও তারা দেশের বাইরে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের দাবি, তারা আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন।

আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো ঢাকায় অনুরোধ পাঠিয়ে দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা চায়। বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইন্টারপোল তাদের দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে।