আইন আদালত
রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা বাতিল চেয়ে রিট খারিজ করলেন হাইকোর্ট
দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত ১২৪(ক) ধারা সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করে বাতিলের দাবিতে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৩১ আগস্ট) শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।
রিট আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত আইনটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল। তাই একটি গণতান্ত্রিক সংবিধানের অধীনে এ ধরনের আইনের অস্তিত্ব থাকতে পারে না।
এতে আরও দাবি করা হয়, দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারা সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি।
আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহ আইন নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। সরকারের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা ও মতপ্রকাশের অধিকার নাগরিকদের থাকলেও এ ধরনের আইন সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি মৌখিক বা লিখিত শব্দ, চিহ্ন কিংবা দৃশ্যমান প্রতীকের মাধ্যমে আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা, অবজ্ঞা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করলে কিংবা তা করার চেষ্টা করলে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী হবেন।
এই অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।