সারাবিশ্ব

নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ ৪ হাজার ৭৫৭ জন


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম

নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ ৪ হাজার ৭৫৭ জন
ছবি: সংগৃহীত

চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পাহাড়ধসে নেপাল ও চীনের তিব্বত অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ১ হাজার ২০৪ জন এবং তিব্বতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই অঞ্চলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৫৭ জন।

বুধবার নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় বরফ ও পাথরের বিশাল স্তর ধসে পড়ে। এতে লেন্দে খোলা নদীতে বিপুল পানি ও পাথর জমে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের সৃষ্টি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে প্রবল স্রোত নেমে আসে। একপর্যায়ে পানির স্রোত ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

আকস্মিক বন্যার পানিতে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সরকারি স্থাপনা। ভেসে যায় মানুষ ও গবাদিপশু। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পাহাড়ি জনপদের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগে নেপালের অন্তত তিনটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পানি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্গতদের কাছে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাহাড়ি নদী, ধসে পড়া ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসস্তূপে এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো কাজ করছে।

চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলের এই বন্যা ও পাহাড়ধস সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং হাজার হাজার মানুষের নিখোঁজ থাকার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু