জাতীয়

এক কোটি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে কাজ করছে সরকার: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

এক কোটি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে কাজ করছে সরকার: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশের শ্রমবাজারে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী সময়ে এক কোটি দক্ষ জনশক্তিকে বিদেশে পাঠাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।

বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে কী ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, কোন খাতে কতসংখ্যক কর্মীর সুযোগ রয়েছে এবং কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন-এসব বিষয় চিহ্নিত করে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু জনসংখ্যাকে বিদেশে পাঠানো নয়, বরং দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে কর্মীদের ভালো কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক আয় বাড়ানোও সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে মো. নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে যাওয়ার সময় অনেক মানুষ দালালদের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন। নানা ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা হয়। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের সেবা সহজ করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (BMET) বিভিন্ন কার্যক্রম ধীরে ধীরে অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে বিদেশগামী কর্মীরা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় স্বীকৃতভাবে সাব-এজেন্সি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার পাশাপাশি অনিয়ম ও প্রতারণা কমানোর চেষ্টা করা হবে।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষ কর্মী তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের সুযোগ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।