জাতীয়
মাদক নির্মূলে ‘কঠোর থেকে কঠোরতর’ পদক্ষেপের নির্দেশ সাচিং প্রুর
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি বলেছেন, মাদক দেশের অন্যতম প্রধান শত্রু। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার সমাজের বিভিন্ন স্তরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং বিশেষ করে দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদক প্রতিরোধ ও নির্মূলে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সাচিং প্রু বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান নিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীরা যেসব রুট ব্যবহার করে নিয়মিত মাদক পাচার করে থাকে, সেসব রুট দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদকের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। তিনি মাদককে সমাজে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়া একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নিরাপদ ও সুন্দর করতে হলে যেকোনো মূল্যে যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে।
মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান সাচিং প্রু। এ জন্য পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসব কমিটির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক কারবারিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হয়।
সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সার পাচার রোধেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
এ ছাড়া সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান, সার পাচার প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং কিশোর গ্যাং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বান্দরবান জেলার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্নাসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।