জাতীয়

সাজেকের দুর্গম পাহাড়ে পানির সংকট মেটাবে সোলার প্রযুক্তি: মীর হেলাল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

সাজেকের দুর্গম পাহাড়ে পানির সংকট মেটাবে সোলার প্রযুক্তি: মীর হেলাল
ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানি ও কৃষি সেচের সংকট নিরসনে সোলার প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসইভাবে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

বৃহস্পতিবার সাজেক ইউনিয়নের বড় কংলাক পাড়ায় সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সোলারভিত্তিক গৃহস্থালি পানি সরবরাহ ও কৃষি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বড় কংলাক পাড়ার মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে সৌরশক্তিনির্ভর প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি। প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।

মীর হেলাল বলেন, এই প্রকল্পের সুফল শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়বে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার অবকাঠামো, পানি, কৃষি ও জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ি জনপদগুলোর মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, জেলা পরিষদের সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন ও সুপর্ণা দেব বর্মন, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রিজাউল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি সৌরশক্তিচালিত সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষিকাজে পানির সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের আয় ও জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।