জাতীয়
জামায়াতের ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতেই এনসিপির গণভিক্ষা কর্মসূচি: রাশেদ খান
‘জামায়াতের কাছ থেকে নেওয়া ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গণভিক্ষা কর্মসূচি চালাতে হচ্ছে’-এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে এনসিপির নেতৃত্ব, অর্থসংগ্রহ, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়েছে। তবে তার এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো তথ্য বা প্রমাণ উল্লেখ করেননি।
রাশেদ খান তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘জামায়াতের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা ভিক্ষা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি।’ তার দাবি, ওই অর্থ পরিশোধের জন্যই এনসিপিকে এখন গণভিক্ষা কর্মসূচি চালু করতে হচ্ছে এবং জামায়াতের পক্ষে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের পক্ষ থেকে এনসিপিকে আগের মতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না-এমন আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে বন্যার তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কারণে এনসিপির গণভিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য অর্থ সংগ্রহে এনসিপি আবারও তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গণভিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করবে বলে দাবি করেন রাশেদ খান।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপি যদি এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে তাদের গণভিক্ষা তহবিলে এক লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন তিনি।
স্ট্যাটাসের আরেক অংশে এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে রুমিন ফারহানার করা একটি কথিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন রাশেদ খান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এনসিপির নেতারা যদি ১৮ মাসের মধ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের মালিক হয়ে থাকেন-এমন অভিযোগের সত্যতা থাকলে-তাহলে তাদের আলিশান কার্যালয়, ফ্ল্যাট ভাড়া এবং জীবনযাপনের ব্যয় কীভাবে নির্বাহ করা হচ্ছে।
রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপির একাধিক নেতার জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তার ভাষায়, মাত্র ১৮ মাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরই দলটির নেতারা ‘জমিদারি ভাবসাব’ নিয়ে চলাফেরা করছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ জনগণ সহজে ভুলে যায়নি।
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করেছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথে ছিলেন। অন্যদিকে, এনসিপির কয়েকজন নেতার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খান আরও প্রশ্ন করেন, বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা না থাকার কারণে যদি দীর্ঘ সময় দলটি ক্ষমতার বাইরে থাকে, তাহলে এনসিপির প্রতি জনগণের আস্থা থাকলে তারা নির্বাচনের মাধ্যমে কেন ক্ষমতায় আসতে পারেনি। একই সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার প্রতিযোগিতা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন রাশেদ খান। তার দাবি, বিএনপির পক্ষ থেকে এনসিপিকে জাতীয় পার্টির মতো ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে রাখার প্রস্তাব গ্রহণ না করায় এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক জোট গড়ে উঠেছে। এতে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, বিএনপির ওই সিদ্ধান্তের কারণে এনসিপির মধ্যে বিএনপির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘নতুন বন্দোবস্তের ঠিকাদার’ হিসেবে পরিচিত এনসিপি ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই ‘ধাপ্পাবাজ’ দলে পরিণত হয়েছে।
সবশেষে রাশেদ খান দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি আরও কয়েক বছর ক্ষমতায় থাকত, তাহলে এনসিপির নেতারা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যেতেন। তবে এসব বক্তব্য রাশেদ খানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মন্তব্য ও অভিযোগ; এগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।