জাতীয়

কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা, সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা, সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলা সার ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বুধবার (তারিখ) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কার্যক্রম, রাসায়নিক সারের উৎপাদন, আমদানি, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনাসহ সার সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

গ্যাস সংকটে কমেছে সার উৎপাদন

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দুই বছরে গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় মাত্র তিন দিন সার উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় টানা ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

দেশের কয়েকটি সার কারখানায় দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং গ্যাস সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সার সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ পরিস্থিতিতে সার সংকট মোকাবিলা ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে সার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

বন্ধ কারখানা চালু ও পুরোনো কারখানা আধুনিকায়নের তাগিদ

বৈঠকে পে-অফ করা সার কারখানাগুলোর বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সার কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উপস্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে দেশে পর্যাপ্ত সার উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা, অবকাঠামো ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সার সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। কোনো ডিলার ইচ্ছাকৃতভাবে সার মজুত করে বাজারে সংকট তৈরি করলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এর মাধ্যমে সার উৎপাদন ও আমদানি থেকে শুরু করে মজুত, পরিবহন ও ডিলার পর্যায়ে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার তাগিদ

বৈঠকে দেশে বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।

এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিসিআইসি, বিএডিসি এবং তাদের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।