জাতীয়
চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপ সম্প্রসারণের উদ্যোগ
দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসকদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা ও অগ্রগতির কাজ এগিয়ে চলছে। এর মাধ্যমে দেশের চিকিৎসকেরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকেরা নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দিনরাত মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসা পেশার মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. হাসান জাফর সভাপতিত্ব করেন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক বক্তব্য দেন।
জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগকে দেশের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দেশের জনগণ আরও উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।