জাতীয়

সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশের সব নাগরিকের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত আইনের শাসন ধীরে ধীরে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘এ দেশের জনগণ যখন বিএনপি সরকারের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তখন সরকার তার সর্বশক্তি দিয়ে ইনশাআল্লাহ সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।’ তাঁর ভাষ্য, গত ১৭ বছরে দেশে আইনের শাসন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মানুষ দেখেছে। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করে পর্যায়ক্রমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাঁর সরকার।

জনসভায় সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। এ প্রসঙ্গে তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, খাল ও নদী পুনঃখনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ মানুষ। তাঁর মতে, শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গও বক্তব্যে উঠে আসে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অন্যদের সমালোচনা করার আগে নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফেনীর একটি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি উঠলেও তিনি সেটি ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের নদী ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এ বাস্তবতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছাবে এবং ফসল উৎপাদন আনুমানিক ১ লাখ মেট্রিক টন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খাল ও নদী পুনঃখননের এই উদ্যোগ অতীতে শুরু হওয়া একটি কর্মসূচির ধারাবাহিকতা। পাশাপাশি গত ১৭ বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকার আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে বালু অপসারণ করে নদী খনন এবং বাঁধ নির্মাণকাজেরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।