জাতীয়
ঢাকা-কুমিল্লা ৮১ কিমি এলিভেটেড রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড কর্ডলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত এ রেলপথ চালু হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে রেলযাত্রার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে। একই সঙ্গে যাতায়াতের সময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে আশা করছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৮১ কিলোমিটার রেলপথের পুরোটাই উড়ালপথ বা এলিভেটেড হিসেবে নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এ রেলপথ মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দূরত্ব ও যাত্রার সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রচলিত রেলপথের তুলনায় সোজা ও সংক্ষিপ্ত পথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এ কর্ডলাইন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে রেল চলাচল আরও দ্রুত করতে সহায়তা করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও সময় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবিত রেলপথটি পুরোপুরি এলিভেটেড হওয়ায় জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কমবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি জানান, জমি অধিগ্রহণের পর নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রাথমিক পরিকল্পনায় চার বছর সময় ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্মাণকাজের সময়সূচি নির্ভর করবে।
সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা-কুমিল্লা এলিভেটেড কর্ডলাইন নির্মিত হলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, নির্ধারিত ব্যয় ও সময়সীমা সম্পর্কে চূড়ান্ত অগ্রগতি জানতে পরবর্তী সরকারি ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হবে।