সারাদেশ
মতলবের বিলে কম্বল মোড়ানো বস্তাবন্দি নারীর মরদেহ উদ্ধার
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় একটি বিল থেকে কম্বল দিয়ে মোড়ানো বস্তাবন্দি অজ্ঞাতপরিচয় এক মধ্যবয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে বিলে ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মতলব পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরমুকুন্দী গ্রামের জোড় ব্রিজসংলগ্ন বিল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে চরমুকুন্দী গ্রামের এক কৃষক বিলে নিজের জমির কচুরিপানা পরিষ্কার করতে যান। এ সময় তিনি পানিতে ভাসমান কম্বলে মোড়ানো বস্তাসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি আশপাশের লোকজনকে জানান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং নিহতের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, ওই নারীকে কয়েক দিন আগে অন্য কোথাও হত্যা করার পর তাঁর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে বিলে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের স্থান, সময় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহত নারীর নাম-পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ থাকলে তাকে খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির মাধ্যমে এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।